সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, মিসর, কাতার, ফিলিস্তিন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। তবে আহতদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি সৌদি কতৃপক্ষ।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাতের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমান হামলা এবং ইয়েমেন সরকারের স্থল অভিযানকে কেন্দ্র করে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে শিগগিরই কথা বলার কথা জানিয়েছেন। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা নিয়েও বিবেচনা চলছে বলে জানান তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও হামলায় একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ: ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ এ ঘটনাকে পরিস্থিতির ‘মারাত্মক অবনতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বেসামরিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। একই সঙ্গে এটি ইয়েমেনের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মিসর ও কাতার: মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি অবহেলার বিষয়টিও তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে, কাতার এ হামলাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের যেকোনো বৈধ পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে দেশটি।
ফিলিস্তিন ও জাপান: ফিলিস্তিন সরকার সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত জাপানি দূতাবাসও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
হামলার পর বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইয়েমেনের সংঘাত নিরসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এ ঘটনার পর সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
অরণ্য- ১১.১০.২৬