সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারের অভিযোগে শরীয়তপুরের জাজিরায় পৃথক অভিযানে ১৫ জেলেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় তিনটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার, প্রায় ৭ হাজার মিটার মাছ ধরার জাল এবং ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। বাকি দুজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিনব্যাপী পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার দিনভর অভিযান চালিয়ে ইলিশ শিকারের অভিযোগে ১৩ জেলেকে আটক করে মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ। এ সময় তিনটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও প্রায় ৭ হাজার মিটার মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়।
আটক ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় এবং তিনজনের বিরুদ্ধে জাজিরা থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। জব্দ করা ট্রলারগুলোর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, নৌ পুলিশ, উপজেলা মৎস্য কার্যালয় ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত পৃথক অভিযানে আরও দুই জেলেকে আটক করা হয়। পরে জাজিরার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এ অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কংকন কুমার বিশ্বাস জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর এ সময়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।