বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিষপানে মারা যাওয়া সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ঝুমুর খানম সেতুর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর প্রবাসী স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নিহতের বোন মিতারা খানম বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগে মামলাটি করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান।
মামলার আসামিরা হলেন ঝুমুরের স্বামী কুয়েতপ্রবাসী কাজী সাহাবুদ্দিন, তাঁর মা রুনু বেগম, বোন শারমিন কাজী ও নাজমিন কাজী এবং বোনের স্বামী সাইদুল হাওলাদার।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে কাজী সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ঝুমুরের বিয়ে হয়। তাঁদের চার বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। ঝুমুরের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বিভিন্ন কারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। প্রায় তিন বছর আগে সাহাবুদ্দিন কাজের জন্য কুয়েতে যান। এরপরও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে নির্যাতন চলতে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান ঝুমুর।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে ভিডিও কলে কথা বলার সময় সাহাবুদ্দিন ঝুমুরকে গালিগালাজ করেন এবং বিষপান করে আত্মহত্যা করতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর পরিবারের অজান্তে বাবার বাড়িতে থাকা ঘাস মারার ওষুধ পান করেন ঝুমুর।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৫ অক্টোবর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর রাতে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ঝুমুরের বাবা করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের সময় উপহারসামগ্রী, বরযাত্রীর সংখ্যা এবং মেয়ের সৌন্দর্য নিয়ে আপত্তি তোলার পাশাপাশি বিদেশ যাওয়ার সময় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন জামাতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় মেয়েকে মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে দাবি তাঁর।
মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন করিম খান। তবে মামলার অভিযোগগুলোর বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।