চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল ইসলাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বজায় রাখা এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চান। শিক্ষার্থীদের দাবি থাকলে তা আলোচনার টেবিলে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে। তবে অবরুদ্ধ করে রাখার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎবিহীন ও বদ্ধ স্থানে অবস্থান করায় দুই অ্যালামনাই সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিলে চিকিৎসক এসে পরীক্ষা করেন।
শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, তাঁর শিক্ষকতা জীবনে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে তিনি কখনো জড়িত ছিলেন না। তাঁর ভাষায়, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাঁর কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা দেন। একই সঙ্গে কার্যালয়ের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।