কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তারে বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাতে এন্ট্রি-লেভেলের চাকরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন স্নাতক ও ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের জন্য বাড়ছে অনিশ্চয়তা। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু কোডিংয়ে দক্ষতা অর্জন করলেই ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকা কঠিন হবে। এর পাশাপাশি প্রয়োজন সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ব্যবসায়িক ধারণা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা।
দেশের সফটওয়্যার খাতে এআইয়ের প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাইসুল কবিরের তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় এন্ট্রি-লেভেলে নিয়োগ কমেছে অর্ধেকেরও বেশি।
বাংলাদেশে সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির সুযোগ কত শতাংশ কমেছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিগন্যালফায়ারের তথ্য বলছে, সিলিকন ভ্যালির ১৫টি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ২০১৯ সালের তুলনায় নতুন স্নাতকদের নিয়োগ ৫০ শতাংশের বেশি কমেছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খাপ খাইয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমে নতুন নতুন দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার পরিবর্তে প্রযুক্তিটিকে কাজে লাগানোর সক্ষমতা অর্জন করতে হবে তরুণ প্রকৌশলীদের। কোডিংয়ের পাশাপাশি সমস্যা বিশ্লেষণ, সৃজনশীল চিন্তা, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরির দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।
প্রযুক্তির অগ্রগতিতে চাকরির ধরন ও নিয়োগের চাহিদা বদলে যাওয়ায় এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য কতটা প্রস্তুত দেশের তরুণ প্রকৌশলীরা?