দেশের শীর্ষ প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে অনেকেই বেছে নেন করপোরেট চাকরি কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ। তবে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নায়লা সারাফ। এলজিইডি ও ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে এবং ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও তিনি যোগ দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে নিজের ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া তুলে ধরেননি নায়লা। বরং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও জীবনমান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে নায়লা সারাফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া ছিল না। নিজের জন্য কিছু চাইনি, চেয়েছি প্রাইমারি শিক্ষা এবং শিক্ষকদের যেন প্রকৃতমান উন্নয়ন হয়।’
সাক্ষাৎকালে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, শ্রেণিকক্ষের সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে। অথচ এ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকেরা সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছেন।
মেধাবী তরুণদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বুয়েটে পড়াশোনা শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নায়লা বলেন, শিশুদের জীবনের প্রথম ধাপটি সঠিকভাবে গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের অর্জিত মেধা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এ পেশা বেছে নিয়েছেন। তবে তাঁর মতে, শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিবর্তন সম্ভব নয়; এ জন্য প্রয়োজন সামগ্রিক নীতিগত সংস্কার।
নায়লা সারাফ নেত্রকোণা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর মতো মেধাবী একজন শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষা খাতে যুক্ত হওয়াকে গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন নেত্রকোণা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর উদাহরণ দেখে অন্য মেধাবীরাও শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী হবেন।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল নায়লা সারাফের উদাহরণ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি নতুন প্রজন্মকে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের প্রচলিত পথের বাইরে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় অবদান রাখার পাশাপাশি শিক্ষকদের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়টি সামনে এনেছেন নায়লা সারাফ। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ।