ছয় মাসের জন্য ‘হেড অব ইয়েস’ কর্মসূচি চালু করেছে ভার্জিন গ্রুপ। বড় ইনফ্লুয়েন্সার না হলেও চলবে, তবে আবেদন করতে পারবেন শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাসিন্দারা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন আর সেসবের গল্প তুলে ধরেই আয় করা যাবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার বা প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এমনই সুযোগ দিচ্ছে ব্রিটিশ ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসনের প্রতিষ্ঠান ভার্জিন গ্রুপ। ছয় মাসের এই বিশেষ কনটেন্ট ক্রিয়েটর কর্মসূচির নাম ‘হেড অব ইয়েস’। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া এ কর্মসূচির জন্য আবেদন আহ্বান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর এনডিটিভির।
এ সুযোগ পেতে জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকার প্রয়োজন নেই। বরং জীবনের কোনো পর্যায়ে নতুন সুযোগ গ্রহণ, সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার গল্প আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে পারাই হবে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে রিচার্ড ব্র্যানসন জানিয়েছেন, এ কর্মসূচিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত প্রার্থী পাবেন ১ লাখ ডলার, আর যুক্তরাজ্যের প্রার্থীর জন্য বরাদ্দ ৭৫ হাজার পাউন্ড।
ব্র্যানসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি পারিশ্রমিকভিত্তিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রকল্প। কোনো লটারির পুরস্কার নয়, আবার প্রচলিত অর্থে চাকরিও নয়। নির্বাচিত ব্যক্তিকে ভার্জিন রেডের সঙ্গে কনটেন্ট নির্মাণের চুক্তি করতে হবে।
কী কাজ করতে হবে?
কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত ব্যক্তিকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে ভার্জিন গ্রুপের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে হবে। এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি করতে হবে ছোট ভিডিও, ছবি ও গল্প।
ভার্জিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে ‘হ্যাঁ’ বলার পর কী ধরনের অভিজ্ঞতা হয়, তা-ই হবে কনটেন্টের মূল বিষয়। আনন্দের মুহূর্ত, অপ্রত্যাশিত ঘটনা কিংবা অবিশ্বাস্য কোনো অভিজ্ঞতাও উঠে আসতে পারে এসব গল্পে।
আবেদনকারীর পেশাদার কনটেন্ট নির্মাতা হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আগে থেকে তৈরি ভিডিও পোর্টফোলিও কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল অনুসারীও প্রয়োজন নেই। নিজের অভিজ্ঞতা, গল্প বলার দক্ষতা ও নতুন কিছু করার সাহসকে গুরুত্ব দেবে প্রতিষ্ঠানটি।
যেভাবে আবেদন করবেন
আগ্রহীদের জীবনের এমন একটি ঘটনা নিয়ে ছোট ভিডিও তৈরি করতে হবে, যখন নতুন কোনো সুযোগ বা অভিযানে সম্মতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের জীবনে পরিবর্তন এনেছিল।
ভিডিওটি ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব অথবা টিকটকে প্রকাশ করতে হবে। পোস্টে **#HeadOfYes** হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করার পাশাপাশি **@Virgin** অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করতে হবে।
২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আবেদনের শেষ সময় ২০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম)।
সব প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত ব্যক্তি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ছয় মাসের জন্য কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এ সময় ভ্রমণ ও নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করতে হবে।
তবে বাংলাদেশের বাসিন্দাদের জন্য এ মুহূর্তে সরাসরি আবেদনের সুযোগ নেই, কারণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
সূত্র: চ্যানেল 24