**আজ গায়ে হলুদ, পরদিন বিয়ে- সব আয়োজন শেষ। কিন্তু বিয়ের আগের দিনই প্রাণ হারালেন ২১ বছর বয়সী আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক।**
গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানিপাড়ার বাড়িতে চলছিল বিয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কনের বাড়িতে তৈরি করা হয়েছিল আলোকসজ্জিত গেট, সাজানো হয়েছিল বাড়িঘর। দুই পরিবার অপেক্ষায় ছিল নতুন জীবনের আনন্দঘন মুহূর্তের। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌমিকের মৃত্যুর খবরে মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু। আনন্দের আয়োজন রূপ নেয় শোক আর কান্নায়।
সৌমিক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি।
সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন তাঁর ভাই। গত চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সকাল ৯টার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত বেসরকারি মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়।
শারমিনের অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বেলা ১টার দিকে চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন মুরাদ ব্যবস্থাপত্র দেন। পরে ওষুধ নিয়ে সৌমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন স্বজনেরা।
কিন্তু বিকেলের দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারমিনের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় বসে থাকতে হয় সৌমিককে। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিয়ের আগের দিন তরুণ এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে দুই পরিবারের স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে বাড়িতে নতুন জীবন শুরুর আনন্দে মুখর থাকার কথা ছিল সবাই, সেই বাড়িতেই এখন স্বজনদের আহাজারি।
#Gaibandha #TragicDeath #WeddingTragedy #BangladeshNews #Aronno_News