কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতান ও নিয়াজ মোর্শেদ এবং ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র। ইতোমধ্যে ম্যানেজার সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে আসামিদের নাম জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান ওসি। বর্তমানে মরদেহগুলো কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কক্সবাজারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
১০ জনের মৃত্যু, পরিচয় মিলেছে সাতজনের
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। প্রায় সাত ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় আরও ছয়জন দগ্ধ হন।
নিহতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ এবং আশুলিয়ার নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৮)।
উদ্ধার করা মরদেহগুলোর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের দোতলার একটি কক্ষের বিছানা থেকে পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া যায়। একই কক্ষের শৌচাগারে পাওয়া যায় আরেকজনের মরদেহ। এ ছাড়া তিনতলার একটি শৌচাগার থেকে পরস্পরকে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দগ্ধ ছয়জন, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। তাঁদের মধ্যে চারজনের শরীর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত অপর দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রিসোর্টের বিভিন্ন অংশে কাঠ ও প্লাস্টিকের বোর্ড থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
ঘটনার পর রিসোর্টটির অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জানিয়েছেন, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। এ বিষয়ে আগে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় বৈধতা নেয়নি বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় অনুমোদনও ছিল না।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি রিসোর্টটির অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও নিষ্পত্তি জরুরি।
#Aronno_News #CoxsBazarNews #InaniResortFire #BangladeshNews #FireSafety