সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা বাড়াতে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে ইরান—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম *দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*। শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সহায়তার মাধ্যমে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে তেহরান। এর ফলে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আরও সমন্বিত ও জটিল হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে গোষ্ঠীটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
### অস্ত্র পরিবহনে সাবমেরিন ব্যবহারের দাবি
*দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল* জানিয়েছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের সমর্থন দিয়ে আসছে ইরান। মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাঠানোর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি, সংযোজন এবং পরিচালনার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যরা যুক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নৌপথে অস্ত্রের কয়েকটি চালান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর ইয়েমেনে অস্ত্র পরিবহনের বিকল্প হিসেবে সাবমেরিন ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে ইরান। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত জুলাইয়ে ইরানের মাহান এয়ার পরিচালিত কয়েকটি ফ্লাইট হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পৌঁছায়। এসব ফ্লাইটে কর্মকর্তা, অস্ত্র ও ড্রোনের খুচরা যন্ত্রাংশ ছিল বলে সূত্রগুলোর দাবি।
সমন্বিত হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলায় পদাতিক বাহিনীর আক্রমণ, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও ড্রোন হামলার মধ্যে সমন্বয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ফাইবার-অপটিক কেবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, হুতিদের উন্নত সামরিক সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক চলাচলের ওপর সম্ভাব্য হুমকি। এসব পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাতের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
### আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিয়েও সতর্কতা
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইয়েমেন সরকার দক্ষিণ লোহিত সাগরের আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের রুট লক্ষ্য করে ইরানি উৎসের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহারের অভিযোগও তোলে দেশটি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও মহাসচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘে ইয়েমেনের স্থায়ী প্রতিনিধি জানান, দেশটির সরকার ইয়েমেনের অভ্যন্তরে অস্ত্রের ধরন ও ব্যবহারে পরিবর্তনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। অস্ত্রের উন্নয়ন এবং সেগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্রে রূপান্তরের কাজে আইআরজিসির বিশেষজ্ঞরা যুক্ত ছিলেন বলেও চিঠিতে অভিযোগ করা হয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব ক্ষেপণাস্ত্র এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সেগুলো ২৫ মিনিট পর্যন্ত আকাশে থাকতে পারে।
ইরানের সামরিক সহায়তা নিয়ে এসব অভিযোগ সত্য হলে তা ইয়েমেন সংঘাতের পাশাপাশি লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবিগুলোকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য থেকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
#Aronno_News #IranNews #SaudiArabia #YemenConflict #MiddleEastNews