রাজধানীর আবদুল গনি রোডের বর্তমান অবস্থান থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৪টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলি এ তথ্য জানিয়েছে।
সরকারের ৫৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে বর্তমানে ৩৮টি সচিবালয় প্রাঙ্গণে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মাত্র ১৮ লাখ বর্গফুট জায়গায় এসব দপ্তরের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয়ে প্রায় ৩০ লাখ বর্গফুট জায়গা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সচিবালয়ের ভেতরে নতুন ২১ তলা ভবন নির্মাণের একটি প্রস্তাব গত এপ্রিলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উত্থাপন করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী ওই প্রস্তাবে অনুমোদন না দিয়ে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরকে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
নতুন সচিবালয়ে থাকছে ১২টি ভবন
প্রস্তাবিত নকশায় প্রখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের স্থাপত্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৪ তলাবিশিষ্ট ১২টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভবনগুলোর চারপাশে থাকবে চক্রাকার সড়ক। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মসজিদ, জিমনেসিয়াম, ফোয়ারা, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা ও কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নতুন কর্মপরিবেশে প্রত্যেক কর্মকর্তার জন্য আলাদা কক্ষের পরিবর্তে উন্মুক্ত অফিস ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শীর্ষ দুই স্তরের কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষ রাখা হতে পারে। অন্যদের জন্য কাচ বা বোর্ডের পার্টিশনযুক্ত উন্মুক্ত কর্মক্ষেত্র তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান সচিবালয়ের ১২টি প্রধান ভবনের মধ্যে আটটির অবস্থা নাজুক। অধিকাংশ ভবনই ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত। জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা থেকেই সচিবালয় স্থানান্তরের আলোচনা জোরালো হয়েছে।
গবেষণা মাঠ রক্ষার দাবি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের
শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন শেষে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এম সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাঠের সবুজায়ন, গাছপালা ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে সেখানে উচ্চতর কৃষি গবেষণা চালিয়ে যেতে চান তাঁরা। তাঁদের মতে, বিষয়টি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের সঙ্গে নয়, ঢাকার পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গেও জড়িত।
এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি সরকার জানে। তাঁদের জন্য আরও বড় বা উপযুক্ত জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে সচিবালয় স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, প্রকল্পের ব্যয় এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।