বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি জাপানে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার করতে চার দিনের সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া এ সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
সফরকে সামনে রেখে ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের কাছে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। পরিবহন ও নগর যোগাযোগ, শিল্প ও বন্দর উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর, অটোমোবাইল, জ্বালানি, জলবায়ু সহনশীলতা, কৃষি ও পর্যটনসহ ১২টি খাতকে এ প্রস্তাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থী পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতিও চলছে।
বাংলাদেশের অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী জাপান। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দেশটির সহযোগিতা রয়েছে।
সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি ও চুক্তির তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ সফরের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং আলোচনায় উঠে আসা সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগ ও সহযোগিতায় রূপ দেওয়া।