জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানেরও উদ্বোধন করেন তিনি। স্মৃতিস্তম্ভে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৮৩৪ জনের নাম খোদাই করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শাহারিয়ার খাঁন আনাস ও ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় উদ্যানের পাশে নির্মিত গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।
স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ শহীদের নাম
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। এর গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভাস্কর্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র ওসমানী উদ্যান
রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানকে আধুনিক, নিরাপদ ও সবুজ নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি নতুন জলাশয়। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।
উদ্যানটিতে রয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং সুবিধা ও জলাশয়ের ঘাট। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটিতে সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথও নির্মাণ করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীবাসীর জন্য উন্নত নাগরিক পরিবেশ ও বিনোদনসুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।