জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার অবনতি ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রধান ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস অব ফ্রান্সের (ইউএনইএফ) ডাকে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের দিকে মধ্যাঞ্চলীয় শহর অরলিন্সে সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে প্রধান বিরোধী দল।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে বিক্ষোভ চলাকালে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা ও লুটপাটের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শনিবার ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি শহরে সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিওঁ। প্যারিসে মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট সড়কও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইতে প্রথমে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলেও পরে একটি শ্রমিক সংগঠনকে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে দেশটির সাংস্কৃতিক আয়োজনেও। শনিবার প্যারিসের ল্যুভরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা হচ্ছে বাসেল শিল্পমেলার কার্যক্রম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।
চলমান পরিস্থিতির কারণে অক্টোবরের শেষ দিকে নাইজেরিয়া ও সেনেগাল সফর পিছিয়ে দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। শুক্রবার শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক করেন তিনি।
এদিকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মাখোঁর। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মানের অবনতি এবং শিক্ষা খাতের সংকট নিয়ে চলমান অসন্তোষের মধ্যে এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।