রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া ও বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। শহরটি ‘বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ উদ্যোগ নেন। আগামী সপ্তাহে স্থানীয় এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান। বর্তমানে শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে একটি অনুষ্ঠানে ওলেশকির পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন মেলানিয়া। এরপর শহরটির বাসিন্দাদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেন তিনি। পরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর প্রতিনিধি দল যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণে কাজ করে।
ইউক্রেনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিনিধি দিমিত্রো লুবিনেৎস এপিকে জানান, আগামী মঙ্গলবার থেকে স্থানীয় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরুর দুই দিন আগে এ বিরতি কার্যকর হবে এবং কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। খেরসন অঞ্চল ও অভিযান পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
লুবিনেৎস বলেন, ভবিষ্যতে অন্যান্য মানবিক অভিযানের ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ একটি মডেল হতে পারে। তবে চুক্তি বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
### প্রথমে সরানো হবে স্থলমাইন
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে। এরপর যাতায়াতের পথ থেকে স্থলমাইন সরিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। সর্বশেষ ধাপে বেসামরিক নাগরিকদের ওলেশকি থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগের প্রশংসা করে লুবিনেৎস তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এদিকে, রাশিয়ার জেনারেল স্টাফের প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মস্কোর স্থানীয় সময় ভোর ৪টা থেকে খেরসন অঞ্চলে রুশ বাহিনী গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, এটি সোমবার গভীর রাত। ওলেশকির কাছে মানবিক অভিযান পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
গেরাসিমভ আরও বলেন, রুশ বাহিনী ‘প্রকৌশলগত অনুসন্ধান’ চালাবে এবং শহরে মানবিক সহায়তাবাহী বহরের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে।
রাশিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা ইয়ানা লান্ত্রাতোভাও মানবিক অভিযান নিয়ে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ উদ্যোগের জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।