মাগুরায় যুবদল নেতা ও রয়েল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সাকের হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে প্রথমবার নেওয়ার পর তাঁর মাথায় গুলির ক্ষত শনাক্ত করতে না পারার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক মাইনুল হাসানের বিরুদ্ধে। ঘটনা তদন্তে পূজার ছুটি শেষে কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহসিন উদ্দিন ফকির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সাকের হোসেনকে প্রথমবার হাসপাতালে নেওয়ার সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মাইনুল হাসান। সে সময় ইসিজি রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে তাঁর মাথার পেছনে গুলির ক্ষত থাকার বিষয়টি তখন শনাক্ত হয়নি।
পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর গোসলের প্রস্তুতিকালে পরিবারের সদস্যরা মাথার পেছনে একটি ছিদ্র দেখতে পান। এরপর তাঁকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় চিকিৎসক মাইনুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহসিন উদ্দিন ফকির জানান, পূজার ছুটি শেষে তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে, সাকের হোসেন হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার মাগুরা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে তাঁরা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অদক্ষতার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, প্রথমবার হাসপাতালে নেওয়ার সময় যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা পৌর বাস টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন সাকের হোসেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়ার বাসিন্দা রনি শিকদার এবং মাগুরার বুজরুকশ্রীকুন্ডি গ্রামের শামীমা তাবাসসুম।
#MaguraNews #YouthPolitics #CrimeNews #HospitalNews #Aronno_News