রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে এ ঘটনায় যুব ইউনিয়নের দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। তবে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ৯টার দিকে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা রাজধানীর পল্টনে আনন্দ মিছিল বের করেন। এ সময় একদল লোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সংঘর্ষ সিপিবির কার্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় সিপিবির কার্যালয়। একই ভবনের অষ্টম তলায় ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের কার্যালয় অবস্থিত।
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপি কিংবা দলটির অন্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে তিনি অভিযোগ করেন। হামলার কারণ সম্পর্কে মাহির শাহরিয়ার বলেন, হামলাকারীরা তাঁদের আওয়ামী লীগ হিসেবে পরিচিত করাতে চান।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফী সাংবাদিকদের বলেন, হামলার খবর পেয়ে তিনি কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একদল লোক পার্টি কার্যালয়ে এসে হামলা চালিয়েছে বলে তিনি প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। তবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সোমবার বিকেলে দীপক শীলকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সিপিবি কার্যালয়ের সামনে আনন্দ মিছিল বের করেন। ওসির ভাষ্য, মিছিল থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিপিবির নেতাদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মী ও হকারদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করেন সংস্কৃতিকর্মীরা। পুলিশ বাধা দেওয়ায় আয়োজকেরা কর্মসূচি পালন করতে পারেননি। সেখান থেকেই দীপক শীলকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।