সকল যোগ্যতা পূরণ করেও পদোন্নতি নেই ! নবম বছরেও প্রভাষক শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে চাকরির আট বছরের বেশি সময় পার হলেও পদোন্নতি পাননি ৩৬তম বিসিএসের অনেক কর্মকর্তা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে প্রভাষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়া এসব কর্মকর্তা এখন নবম বছরে থাকলেও তাঁদের পদোন্নতি হয়নি। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের অনেক কর্মকর্তা। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পরও পদোন্নতি না হওয়ায় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। দীর্ঘদিনের এ জটিলতা নিরসনের দাবিতে আন্দোলনেও নেমেছেন প্রভাষক পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
গত ২৫ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, শূন্য পদের পাশাপাশি সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। শূন্য পদের চেয়ে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তা বেশি। মাউশির সূত্র অনুযায়ী, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সহকারী অধ্যাপকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪ হাজার ৯৮০টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৪ হাজার ৩১ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ৯৪৯টি পদ। অন্যদিকে, সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছেন ১ হাজার ৬৮৪ জন কর্মকর্তা। অর্থাৎ শূন্য পদের তুলনায় পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তা ৭৩৫ জন বেশি।
সাধারণত শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি দেওয়া হয় শিক্ষা ক্যাডারে। ফলে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেও অনেক কর্মকর্তাকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পদোন্নতির যোগ্যতা পূরণেও অপেক্ষা প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সাধারণত প্রভাষক পদে পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, সন্তোষজনক বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) এবং বনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। মাউশির সূত্র বলছে, ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের অনেক কর্মকর্তা এসব যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তারপরও পদোন্নতি না হওয়ায় তাঁদের পেশাগত অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ কর্মকর্তাদের।
শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দাবি, অন্যান্য কয়েকটি ক্যাডারে সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হলেও তাঁদের ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না। একই সময়ে চাকরিতে যোগ দেওয়া অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তুলনায় তাঁদের পদোন্নতির সুযোগও সীমিত। উচ্চতর পদেও জটিলতা
শুধু প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক নয়, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন, উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকায় দীর্ঘ কর্মজীবনেও প্রত্যাশিত পেশাগত অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে, পদোন্নতির জটিলতা দূর করা, প্রয়োজন অনুযায়ী সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টি এবং অধ্যাপক পদকে তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন।
মাউশির আশ্বাস
মাউশির মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভাও চলমান রয়েছে। দ্রুত পদোন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অন্যান্য পদেও নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন পদোন্নতির চলমান প্রক্রিয়া কবে বাস্তবে রূপ নেবে। তাঁদের মতে, শিক্ষক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পেশাগত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।