এশিয়াজুড়ে চাপে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা,গ্রেপ্তার ও সেন্সরশিপে ঝুঁকিতে সাংবাদিকতা
এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আবারও চাপে পড়েছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। সরকারি নিয়ন্ত্রণ, গ্রেপ্তার, সেন্সরশিপ, অনলাইন নজরদারি ও সহিংসতার কারণে সাংবাদিকদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ও সাংবাদিক সংগঠন।
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক দেশ সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে সাংবাদিকদের ওপর চাপ, ভয়ভীতি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ ৎমূলক সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ইস্যু ও দুর্নীতিবিষয়ক সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি বাঁধার মুখে পড়ছেন।
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের কঠোর নীতির কারণে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হয়েছে। গত এক বছরে শতাধিক সাংবাদিক হুমকি, গ্রেপ্তার ও সেন্সরশিপের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। কয়েকটি টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলের সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা কম থাকলেও আত্মসেন্সরশিপ ও সংবাদ গোপনের অভিযোগ রয়েছে। সরকার মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতিশ্রুতি দিলেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে চীন ও ভিয়েতনামে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দাবি, চীনে শতাধিক সাংবাদিক কারাবন্দি রয়েছেন। ভিয়েতনামেও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে স্বাধীন সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও ভারতেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনা বেড়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সংঘাত কাভার করতে গিয়ে বহু সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন।
মিয়ানমারে সামরিক জান্তার দমননীতির কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি বহু সাংবাদিক এখনও কারাগারে রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের ইরান, সৌদি আরব ও সিরিয়াতেও সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি, ভয়ভীতি ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিতে সংবাদ নিয়ন্ত্রণ ও ইন্টারনেট সীমিত করার অভিযোগ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে ফিলিপাইন ও কম্বোডিয়ায় সাংবাদিক হত্যা, মামলা ও অনলাইন প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার চাপ বাড়ছে। আর উত্তর কোরিয়ায় স্বাধীন সাংবাদিকতা পুরোপুরি নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো।