ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং ১১-দলীয় জোটের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের লড়াইয়ে স্থানীয় ভোটের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির সমীকরণও আলোচনায় এসেছে। এ নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ, ভোটের পরিবেশ এবং ফলাফল দুই দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ভোটের ব্যবধান, ভোটারদের মনোভাব এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা রাজনৈতিক মহলে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই এ আসনের ফলাফল নিয়ে প্রার্থী, সমর্থক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ইতিমধ্যে ভোট দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ও ১১-দলীয় জোটের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি প্রার্থী। অন্যদিকে, সময় বাড়ার সঙ্গে সাধারণ ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন মির্জা ফয়সল আমীন। একই সময়ে হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন দেলাওয়ার হোসেন।
ভোট দেওয়ার পর মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর। ভোটাররা বাধা ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন। নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, তা হাসিমুখে মেনে নেবেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, দেলাওয়ার হোসেন বলেন, সময় গড়ানোর সঙ্গে ভোটাররা কতটা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন, তা স্পষ্ট হবে। নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার কথা বলেন তিনি। এ সময় কয়েকটি কেন্দ্রে তাঁর এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন জামায়াত প্রার্থী।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং বিজিবির রিজার্ভ টিম মোতায়েন রয়েছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসনটির তিন উপজেলায় মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। এ ছাড়া ২৮৭ জন নিবন্ধিত ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় কার পক্ষে যায়, এখন সেদিকেই নজর প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের।