মাত্র ১৩ বছর বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন জাপানের ইউকা। ১৪ বছর বয়সে জন্ম দেন কন্যাসন্তানের। অল্প বয়সে মাতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ তিনি একজন ব্যবসায়ী। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, তাঁর ব্যবসার অংশীদার নিজের মেয়ে। বর্তমানে ইউকার বয়স ৩৭ বছর। আর তাঁর মেয়ের বয়স ২৩। জাপানের সংবাদমাধ্যম অরিকন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ইউকা জানান, মাত্র ১৩ বছর বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ভয় ও অনিশ্চয়তায় ভুগেছিলেন তিনি। কীভাবে সন্তানকে বড় করবেন, ভবিষ্যৎ কী হবে-এমন নানা চিন্তা তাঁকে ঘিরে ধরেছিল। তবে ১৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর সব প্রতিকূলতা সামলে মেয়েকে বড় করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়ে ওঠে তাঁর মেয়ে। একপর্যায়ে জাপানের জনপ্রিয় ‘মেইড ক্যাফে’ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। সেখানে কাজ করার স্বপ্ন দেখত সে।
মেয়ের সেই স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়ান ইউকা। শেষ পর্যন্ত মা-মেয়ে মিলে একটি মেইড ক্যাফে চালু করেন। বর্তমানে দুজন একসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। প্রায়ই একই ধরনের পোশাক পরে অতিথিদের সেবা দেন তাঁরা। জাপানের মেইড ক্যাফে মূলত বিশেষ থিমে সাজানো এক ধরনের খাবারের দোকান। এসব ক্যাফেতে কর্মীরা সাধারণত পরিচারিকার আদলে পোশাক পরে অতিথিদের খাবার পরিবেশন করেন।
ইউকা ও তাঁর মেয়ের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১৪ বছর। দুজনের চেহারায় তারুণ্যের ছাপ থাকায় অনেকেই প্রথম দেখায় তাঁদের মা-মেয়ে নয়, বরং দুই বোন বলে মনে করেন। একসময় অল্প বয়সে মাতৃত্বের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নানা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছিলেন ইউকা। সময়ের পরিক্রমায় সেই মেয়ের সঙ্গেই এখন তাঁর ব্যবসায়িক পথচলা। মা-মেয়ের এই যৌথ উদ্যোগ তাঁদের সম্পর্কের নতুন এক অধ্যায় তৈরি করেছে।