শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ঘরের মাঠে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। সব সংস্করণে সাম্প্রতিক সময়ে ধুঁকতে থাকা দলটির জন্য এই সাফল্য নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা হয়ে এসেছে। ফাইনালে রোমাঞ্চকর জয়ের পর বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও আশাবাদী অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ফাইনালে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্য ৭ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। ফখর জামানের আগ্রাসী সেঞ্চুরির পর শেষ দিকে সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাসের কার্যকর ব্যাটিংয়ে জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি জিতল পাকিস্তান।
ম্যাচ শেষে বোলারদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন শাহীন। শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের দ্রুত শুরুর পর বোলিং কৌশলে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত কাজে এসেছে বলে জানান তিনি। পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, প্রথম তিন-চার ওভার শেষে তাঁরা ক্রস-সিম ও বাউন্সারের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে রিভার্স সুইং পাওয়ার পাশাপাশি উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, এমন প্রত্যাশাও ছিল। বোলাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। রান তাড়ার একপর্যায়ে চাপের মুখে পড়লেও এক প্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি করেন ফখর জামান। অভিজ্ঞ এই ওপেনারের ইনিংসকে দলের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন শাহীন। তাঁর ভাষায়, ফখর রান পেলেই সেটি দলের জন্য বড় ম্যাচ হয়ে ওঠে।
তবে ফখরের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সও অধিনায়ককে আশাবাদী করেছে। সাদ বেগের প্রশংসা করে শাহীন বলেন, পিন্ডিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচ থেকেই ভালো খেলছে সে। ফাইনালে ফখর যখন কঠিন সময় পার করছিল, তখন সাদ নিজের ওপর আস্থা রেখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছে। ব্যাট হাতে আরাফাত মিনহাস ও হাসান নওয়াজের অবদানকেও পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কয়েকটি সিরিজ ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। দীর্ঘ বিরতির পর ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জয় সেই প্রস্তুতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শাহীন। তাঁর মতে, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম এমন ট্রফি জেতা পুরো দলের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।