যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দিতে বিস্তৃত পরিসরে নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের ওপর কঠোর আঘাত হানতে নতুন একটি অপারেশনাল এলাকা নির্ধারণের কাজ চলছে। খবর তাসনিম নিউজ এজেন্সির। সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দেওয়া নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে এ তথ্য জানান আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি। তাঁর ভাষ্য, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা ‘যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে’। যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে এবার পাল্টা আঘাতের ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না। যেখান থেকেই হুমকি আসুক, সেখানেই তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, আইআরজিসির মুখপাত্র জানান, নতুন লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা এবং সেসব স্থানে হামলার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শত্রুপক্ষকে মোকাবিলায় এবার আগের পরিকল্পনার বাইরে বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যেকোনো আগ্রাসন শুরু হলে ভৌগোলিক সীমারেখা বিবেচনা না করেই তাৎক্ষণিক জবাব দেবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। তবে ইরানের এসব বক্তব্য নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন হামলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।