চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয়ের চিত্র দেখা গেছে ড. সামছুল হক মডেল কলেজে। এ বছর কলেজটি থেকে মানবিক বিভাগে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
শুধু এ বছরই নয়, গত তিন বছরের ফলাফল পর্যালোচনায়ও কলেজটির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হন। ২০২৫ সালে চারজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেন মাত্র একজন। অর্থাৎ টানা তিন বছর ধরেই কলেজটির ফলাফল হতাশাজনক।
২০০৩ সালে মতলব দক্ষিণ উপজেলার বহরী গ্রামে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে। তবে প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের সন্তোষজনক ফলাফল নিশ্চিত করতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই বছর পড়াশোনা করেও দুজন শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে না পারা উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং ধারাবাহিক ফল বিপর্যয় কলেজটির পাঠদান ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মতলব দক্ষিণ উপজেলার আটটি কলেজ থেকে মোট ৯১৯ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩২৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র তিনজন। উপজেলায় কলেজ পর্যায়ে গড় পাসের হার ৩৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, উপজেলার সাতটি মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেন ১৩৬ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৪৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন। আলিম পর্যায়ে পাসের হার ৩১ দশমিক ৬১ শতাংশ।
এ বছর মতলব সরকারি কলেজ (বিএম) থেকে ৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৪২ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং কোচিংনির্ভর শিক্ষার প্রবণতা বাড়ার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শিক্ষার গুণগত মান কমছে, যার প্রতিফলন ঘটছে পরীক্ষার ফলাফলে।
এ বিষয়ে ড. সামছুল হক মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কলেজে নেই। মালিক কলেজ বন্ধ করে দিয়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ড. সামছুল হক মডেল কলেজের ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ বিষয়ে কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করা হবে।