কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে (৭৮)। ঢাকায় মৃত্যুর পর গ্রামের বাড়িতে মরদেহ নেওয়া হলেও শেষ বিদায়ে দেওয়া হয়নি গার্ড অব অনার। বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজার সময় নির্ধারণে সমন্বয়হীনতা ও সূর্যাস্তের কারণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্বজন, সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসী। শনিবার (৭ নভেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার দীর্ঘ কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি ঢাকায় ছেলের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে মাগরিবের পর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ সদস্য ও বিউগল বাজানোর দল পাঠানো হয়েছিল। তবে সে সময় উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের সময় সশস্ত্র সালাম ও জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধান রয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা যায় না।
মরহুমের ভাই শাহজাহান বলেন, পরিবারের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর ভাইকে শেষ বিদায় জানানো হবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সন্ধ্যার কারণে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব না হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্তত শেষ শ্রদ্ধা জানানো যেত।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হলেও প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি আসেননি। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হকও ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, মরদেহ ঢাকায় থাকায় দাফনের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। মৃত্যুর খবর প্রশাসনকে জানানো হলেও মরদেহ কখন গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাবে, কিংবা পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে পরিবার বা মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে জানানো হয়নি। ফলে সমন্বয়ের অভাব তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।