সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইদানীং একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা চোখে পড়ছে। কিছু নারী প্রতিদিন নিজেদের আকর্ষণীয় ছবি প্রকাশ করে ‘শুভ সকাল’, ‘শুভ দুপুর’, ‘শুভ রাত্রি’, ‘জুম্মা মোবারক’ কিংবা নানা আবেগঘন লেখা পোস্ট করছেন। শুভেচ্ছা বিনিময় বা নিজের ছবি প্রকাশ করা অপরাধ নয়। কিন্তু এসবের আড়ালে কারও উদ্দেশ্য যদি হয় বেগানা পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ, প্রশংসা কুড়ানো কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, তাহলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ লাইক-কমেন্ট খুঁটিয়ে দেখেন- কে কতটা প্রশংসা করলেন, কে বেশি আগ্রহ দেখালেন। এরপর ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি, অনৈতিক সম্পর্ক কিংবা প্রতারণার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। তবে প্রমাণ ছাড়া কোনো নারী বা পুরুষের চরিত্র ও উদ্দেশ্য নিয়ে অভিযোগ করা অনুচিত। বিশেষ করে বিবাহিত নারী-পুরুষের মনে রাখা উচিত, দাম্পত্য বিশ্বস্ততা, পারিবারিক মর্যাদা ও চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুকে অপরিচিত বা বেগানা নারী-পুরুষের অতিরিক্ত প্রশংসা, ব্যক্তিগত বার্তা কিংবা আবেগঘন কথাবার্তার প্রলোভনে পড়ে এমন কোনো সম্পর্কে জড়ানো উচিত নয়, যা একটি সুন্দর সংসার ধ্বংস করতে পারে।
একজন স্ত্রী যেমন স্বামীর বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করবেন, তেমনি একজন স্বামীও স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকবেন। সাময়িক আবেগ, অপরিচিত মানুষের মিষ্টি কথা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণের জন্য দাম্পত্য সম্পর্ক, সন্তানের ভবিষ্যৎ ও পারিবারিক শান্তি বিপন্ন করা কখনোই কাম্য নয়।
পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের ৩০ ও ৩১ নম্বর আয়াতে নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখা ও শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলাম শুধু বাহ্যিক পর্দা নয়, মানুষের নিয়ত, চরিত্র, আচরণ ও নৈতিকতার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে।
‘জুম্মা মোবারক’ লিখে শুভেচ্ছা জানানো ভালো; তবে ইসলামের আদর্শ নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় শুভেচ্ছা কিংবা আবেগঘন কথাবার্তাকে অনৈতিক সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম বানানো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
মনে রাখবেন, ফেসবুকের হাজারো লাইক-কমেন্ট কবরের অন্ধকার দূর করবে না। মানুষের প্রশংসা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাতের জবাবদিহি অনিবার্য।
আজ যে ছবি, সৌন্দর্য কিংবা জনপ্রিয়তা নিয়ে আমরা ব্যস্ত, একদিন সবকিছু পেছনে ফেলে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। সেদিন মানুষের প্রশংসা নয়, ঈমান, নেক আমল, বিশুদ্ধ নিয়ত এবং আল্লাহর রহমতই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি সচেতন নারী-পুরুষের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্কের প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করা, অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠতা পরিহার করা এবং অন্যদেরও সচেতন করা। বিশেষ করে পরিবার ও সমাজের শান্তি বিনষ্ট করতে পারে এমন আচরণের বিরুদ্ধে শালীন ও যুক্তিসংগত প্রতিবাদ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
একটি ভুল সম্পর্ক শুধু দুটি মানুষের জীবন নয়, একটি সাজানো সংসার, নিষ্পাপ সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের শান্তিও নষ্ট করে দিতে পারে।
আসুন, অন্যের সমালোচনার আগে নিজের চরিত্র সংশোধন করি। জাহান্নামের শাস্তিকে ভয় করি, সময় থাকতে তওবা করি এবং ফেসবুককে আত্মপ্রচার, প্রতারণা ও অনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যম না বানিয়ে জ্ঞান, মানবকল্যাণ ও ইসলামের সুন্দর শিক্ষা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করি।
মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হোক জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য। দুনিয়ার সাময়িক আনন্দের জন্য আখিরাতের চিরস্থায়ী কল্যাণ বিসর্জন দেবেন না। মহান আল্লাহ আমাদের মা-বোন, স্ত্রী-কন্যাসহ সকল নারী-পুরুষকে হেদায়েত দান করুন, প্রতিটি পরিবারকে অনৈতিক সম্পর্ক ও প্রতারণার ক্ষতি থেকে হেফাজত করুন এবং আমাদের সবাইকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করুন- আমিন।