আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনির ‘ব্যাডটাচ’-এর অভিযোগ ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। পরীমনির প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে নিজের জীবনের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও প্রকাশ করেছেন তিনি। এক সাংবাদিকের আচরণে অস্বস্তি ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী। তবে প্রভার বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা ও সমালোচনা।
সম্প্রতি আদালত প্রাঙ্গণে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘ব্যাডটাচ’-এর অভিযোগ তোলেন পরীমনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ঘটনার পর নেটিজেনদের একটি বড় অংশ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ঘটনাস্থলে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগের পক্ষে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলেও বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসে। এমন পরিস্থিতিতে পরীমনির সমর্থনে কথা বলেন অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। ভিডিওতে প্রভাকে আবেগপ্রবণ ও ক্ষুব্ধ মনে হয়েছে। তার বক্তব্যে উঠে আসে, কর্মক্ষেত্র কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে নারীর ব্যক্তিগত পরিসর ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ভিডিওর শুরুতেই প্রভা বলেন, ‘কিছু বিষয় আছে, যা এড়িয়ে না গেলে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারি না, অপরাধী মনে হয়, বিবেকের কাছে ছোট হয়ে যাই।’ এরপর পরীমনির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ওই সাংবাদিককে সমর্থন না করার আহ্বান জানান তিনি। দর্শকদের উদ্দেশে প্রভা বলেন, ‘আপনারা তাকে সমর্থন করবেন না। আমরা এটার মুখোমুখি হই।’ শুধু পরীমনির ঘটনার প্রতি সমর্থন জানিয়েই থেমে থাকেননি প্রভা। নিজের জীবনের একটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রভার দাবি, অতীতে একটি প্রসাধনীর ফেয়ার ইভেন্টে অংশ নিতে গিয়ে এক সাংবাদিকের আচরণে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রভা জানান, ওই অনুষ্ঠানে কয়েকজন সাংবাদিক তাকে ঘিরে ধরেছিলেন। এ সময় এক সাংবাদিক একাধিক মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তার শরীরের অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসেন। এতে তিনি অস্বস্তি বোধ করছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি পেছনে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ওই সাংবাদিকের হাত তার শরীরের আরও কাছে চলে আসছিল বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রভা বলেন, ‘বিশ্বাস করেন, তিনি যদি সাংবাদিক না হতেন, আমার নিজের স্যান্ডেল দিয়ে তাকে প্রহার করতাম! আমি তাকে হেসে হেসেই বলছিলাম, আপনি বুঝতে পারছিলেন না, আমি আনকমফোর্টেবল ফিল করছি?’
প্রভার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মুহূর্তে সামান্য এদিক-সেদিক নড়াচড়া হলেই অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের ঘটনা ঘটতে পারত। যদিও তিনি এটিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তার বক্তব্যে ওই সাংবাদিকের আচরণে নিজের অস্বস্তির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। পরীমনির অভিযোগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে বয়কট করার আহ্বান জানান প্রভা। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানান তিনি। তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল, কোনো নারী কোনো পরিস্থিতিতে অস্বস্তি বা অনিরাপত্তা বোধ করলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তবে প্রভার এই ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রত্যাশিত ইতিবাচক সাড়া পায়নি। বরং ভিডিওটি প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন। কেউ কেউ পরীমনির অভিযোগ এবং প্রভার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে একসঙ্গে আলোচনায় আনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এদিকে পরীমনির অভিযোগের সত্যতা, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। প্রভার বক্তব্য নতুন করে সেই বিতর্কে মাত্রা যোগ করেছে। তবে তার নিজের অভিজ্ঞতা কিংবা পরীমনির অভিযোগ- কোনোটিরই স্বাধীন তদন্ত বা প্রমাণের তথ্য এই বক্তব্যে উঠে আসেনি।