বিগ বস বাংলার ঘরে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে আলোচনায় ছিলেন অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত। সহপ্রতিযোগী রাজবীরের সঙ্গে বিরোধ এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত শো থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সরাসরি নন্দিনীকে বিগ বসের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শো থেকে বের হওয়ার পরদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এই অভিনেত্রী।
নন্দিনী ও রাজবীরের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত একটি আংটিকে কেন্দ্র করে। নন্দিনীর দেওয়া আংটিটি খুঁজে না পাওয়ায় রাজবীরের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয় কথা-কাটাকাটি। অন্য প্রতিযোগীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এ সময় রাজবীরের গায়ে হাত তোলেন নন্দিনী। ঘটনার পর শনিবারই নন্দিনীকে শো থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সাধারণত দর্শকদের ভোটের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের বিদায়ের বিষয়টি নির্ধারিত হলেও নন্দিনীর ক্ষেত্রে সঞ্চালকের সরাসরি হস্তক্ষেপে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত আসে।
শো থেকে বেরিয়ে রবিবার (৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন নন্দিনী। পোস্টে তিনি স্বীকার করেন, বিগ বসের বাড়িতে আবেগ ও উত্তেজনার বশে এমন কিছু আচরণ করেছেন, যা করা উচিত হয়নি। এ জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। নন্দিনী লেখেন, তিনি সব সময় মনের কথা খোলাখুলিভাবে বলতে পছন্দ করেন। নিজের মতামত প্রকাশ কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে কখনো পিছিয়ে থাকেন না। তবে বিগ বসের বাড়ির অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছেন, কিছু সীমারেখা রয়েছে, যা কোনো অবস্থাতেই অতিক্রম করা উচিত নয়।
শুধু রাজবীরের কাছেই নয়, বিগ বসের বাড়ির অন্য সহপ্রতিযোগীদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, এই সফর তার জীবনের একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা, সমর্থন ও উৎসাহের জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নন্দিনী। পোস্টের শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘উইথ লাভ, নন্দিনী।’
এদিকে নন্দিনীর বিদায়ের পর তার বাবার একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে ‘ভালোবাসলে বলিদান’ কথাটি উঠে আসায় নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে পোস্টটির বিস্তারিত বক্তব্য এখনো স্পষ্ট নয়।