আদালত প্রাঙ্গণে এক সাংবাদিকের সঙ্গে চিত্রনায়িকা পরীমনির বাগ্বিতণ্ডা ও অশোভন আচরণের অভিযোগ নিয়ে এবার সমালোচনা করেছেন ঢাকাই সিনেমার জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী রিনা খান। তাঁর মতে, রাগ বা ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে প্রকাশ্যে কাউকে গালাগাল করা কোনোভাবেই একজন শিল্পীর জন্য শোভনীয় নয়। এ ধরনের আচরণ শুধু সংশ্লিষ্ট শিল্পীর ভাবমূর্তি নয়, পুরো শিল্পী সমাজের সুনামকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। সম্প্রতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধরের মামলায় গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আদালতে হাজিরা দিতে যান চিত্রনায়িকা পরীমনি। সেখানে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘ব্যাডটাচ’-এর অভিযোগ তুলে তাঁর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান অভিনেত্রী। এ সময় ওই সাংবাদিককে গালমন্দ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরে আদালত প্রাঙ্গণের ওই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সাংবাদিকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পরীমনির আচরণের সমালোচনা করেন। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এবার এ ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী রিনা খান। তিনি বলেন, রাগের বশবর্তী হয়ে অনেকেই হয়তো কাউকে গালাগাল করেন। কিন্তু এমন আচরণ করা উচিত নয়। কারণ, শিল্পীদের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা তৈরিতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
রিনা খানের ভাষায়, ‘মিডিয়ার মাধ্যমেই আমরা কিন্তু পরিচিত হই। আমাদের সুনামটাও আসে মিডিয়ার মাধ্যমে, আমাদের দুর্নামটাও আসে মিডিয়ার মাধ্যমে। তাই আমরা এমন কোনো কথা বলব না, এমন কোনো ব্যবহার করব না, যেটা শিল্পীদের ওপর বর্তায়।’ পরীমনির আচরণকে পুরো শিল্পী সমাজের জন্য কলঙ্কজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষের সামনে একজন শিল্পীর এভাবে খারাপ কথা বলা উচিত নয়। কোনো ব্যক্তির আচরণের দায় শুধু তাঁর নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, অনেক সময় তা পুরো শিল্পী সমাজের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলে।
রিনা খান আরও বলেন, ‘আমি কেন হাজার হাজার মানুষের সামনে খারাপ কথা বলব? এটা তো একজন শিল্পীর না, পুরো শিল্পী জাতির ওপর কলঙ্ক। এটা ঠিক হয়নি। কালকে আমি দেখেছি নিউজটা। তবে এভাবে গালাগালি করা উচিত না।’ শিল্পীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারও প্রতি ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকলে তা প্রকাশ্যে অপমান বা গালাগালির মাধ্যমে প্রকাশ না করে আলাদাভাবে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। ব্যক্তিগত অসন্তোষ থাকলেও শালীনতা ও পেশাগত আচরণ বজায় রাখা প্রয়োজন।
রিনা খানের বক্তব্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে শিল্পীদের সম্পর্ক এবং জনসমক্ষে তাঁদের আচরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাঁর মতে, গণমাধ্যমের মাধ্যমে শিল্পীরা যেমন পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেন, তেমনি তাঁদের আচরণের নেতিবাচক দিকও মানুষের সামনে আসে। তাই শিল্পীদের কথাবার্তা ও ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।