ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ছয়টি গ্রাম বিচ্ছিন্ন করে পার্শ্ববর্তী বরিশল ইউনিয়নে যুক্ত করার প্রতিবাদে স্থানীয়দের টানা পাঁচ ঘণ্টার রেল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি জেলা বিএনপির আশ্বাসে স্থগিত হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। তবে আগামী তিন দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আবারও অবরোধ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম নিয়ে সম্প্রতি বরিশল নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। নতুন ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত গ্রামগুলো হলো চান্দি, কোড্ডা, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, বৈষ্ণবপুর ও বরিশল। এসব গ্রাম আগে বাসুদেব ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন ইউনিয়ন গঠনের ফলে গ্রামগুলো বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার প্রস্তাবনায় নতুন বরিশল ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁর বাড়ি বরিশল গ্রামে। তবে ছয়টি গ্রাম নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন সংশ্লিষ্ট গ্রামের বাসিন্দারা। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির একটি অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ৬টা থেকে কোড্ডা এলাকায় রেলপথ ও সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এতে ওই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে সড়কে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হয়। হঠাৎ করে রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ যাত্রী ও চলাচলকারীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
অবরোধের খবর পেয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের দাবির বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পরে তাঁর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী তিন দিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নয়ন জানান, আপাতত তিন দিনের জন্য অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। আলোচনার মাধ্যমে দাবি পূরণ না হলে আবারও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনকারীদের কয়েকজন প্রতিনিধিকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক করা হবে। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এদিকে, রেলপথ অবরোধের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী অন্তত সাতটি আন্তনগর ট্রেন বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় ট্রেনযাত্রীদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রেলপথ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
পাঁচ ঘণ্টার অবরোধ শেষে রেল ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হলেও ছয়টি গ্রাম নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান না হলে আন্দোলনকারীরা আবারও অবরোধে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।