সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মশাল আলোর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান তানজিল আমীন শুভ। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে সংগঠনটির নেওয়া উদ্যোগ বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক সম্মাননা তালিকায়। মশাল আলোর ‘পিওর ওয়াটার ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ১৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, এসব নলকূপ থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ পানি সংগ্রহ করছেন। এর আগে উপজেলার কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ পানির জন্য এক থেকে দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। নলকূপ স্থাপনের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানার স্মরণে প্রতিষ্ঠিত ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখা তরুণদের জন্য বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে পরিচিত। তরুণদের নেতৃত্ব, উদ্যোগ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। তানজিল আমীন শুভর সমাজসেবামূলক কাজের শুরু ২০১৫ সালে। তখন তিনি টাঙ্গাইলে স্কুলে পড়তেন। কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১০টি শীতের কাপড় সংগ্রহ করে স্থানীয় অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছিলেন। ছোট পরিসরের সেই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মশাল আলো গড়ে তোলার প্রেরণা হয়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ১১ বছরে সংগঠনটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৫৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ, জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া, আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের সহায়তা, অসচ্ছল মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে সংগঠনটি। ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তানজিল আমীন শুভ বলেন, পুরস্কারে তার নাম থাকলেও এর পেছনে মূল অবদান মশাল আলোর স্বেচ্ছাসেবকদের। তাদের পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
সংগঠনটির চলমান উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রক্তদাতা খুঁজে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করা। এ লক্ষ্যে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করছে মশাল আলো। এর মাধ্যমে জরুরি মুহূর্তে রোগীর স্বজনেরা দ্রুত সম্ভাব্য রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলে আশা করছে সংগঠনটি। এ বিষয়ে তানজিল বলেন, জরুরি সময়ে রোগীর পরিবার যেন দ্রুত সম্ভাব্য রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই অ্যাপটি তৈরি করা হচ্ছে। শিগগিরই এটি সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তানজিল আমীন শুভ ২০২৪ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড প্রফেশনসে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন।
ছোট পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে শুরু হওয়া একটি উদ্যোগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন মশাল আলোর স্বেচ্ছাসেবীদের জন্যও বড় প্রাপ্তি। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তার মতো মৌলিক বিষয়ে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেছে এ অর্জন।