ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ইতিহাস গড়া ইনিংস খেলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশের ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ২৪২ রান করে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটার হয়েছেন এই ডানহাতি ক্রিকেটার। স্মরণীয় এই ইনিংসের পর নিজের অনুভূতি জানাতে সম্প্রতি ক্যামেরার সামনে এসেছেন হৃদয়। পুরো দিন ব্যাটিং করার ক্লান্তিতে আগের দিন সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। পরে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে নিজের স্বপ্ন পূরণের আনন্দের কথা তুলে ধরেন।
হৃদয় বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা আমার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্নটা পূরণ হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। হয়তো আমার প্রত্যাশার চেয়েও একটু আগে পূরণ হয়েছে। সবকিছুর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’ ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন হৃদয়। মাত্র ২২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন তিনি। পরে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে শেষ দুই ব্যাটারের সঙ্গে জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডে আরও ২০২ রান যোগ করেন হৃদয়। তার অসাধারণ ইনিংসে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
নিজের এই সাফল্যকে ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না হৃদয়। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের সেরাটা দেওয়াই একজন ব্যাটারের প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন, তখন দলের জন্য নিজের সেরাটা দিতে হবে। যখনই কোনো সুযোগ আসবে, সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।’ ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়লেও সতীর্থদের অবদান ভুলে যাননি হৃদয়। বিশেষ করে তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের প্রশংসা করেছেন তিনি। হৃদয়ের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই দুই সতীর্থের সমর্থন তাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তাইজুল ও তাসকিন খুব ভালো খেলেছে। ওরা যেভাবে আমাকে সমর্থন দিয়েছে, তাতে আমি অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।’ সিলেটে নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট খেলছেন হৃদয়। সামনে দীর্ঘ পথ থাকলেও আপাতত ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করেননি তিনি। বরং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী অবদান রাখাই তার মূল লক্ষ্য।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে হৃদয় বলেন, ‘আপাতত আমার কোনো লক্ষ্য নেই। শুধু দলের যা প্রয়োজন, সেটাই করতে চাই। আগেও বলেছি, যখনই সুযোগ পাই, দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করি। ম্যাচের পরিস্থিতি যেমনই হোক, দলের যা প্রয়োজন হবে, আমি সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব।’